অন্বেষণ

ক্যাটাগরি অপরাধ

  • শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

    শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

    বগুড়ার শেরপুরে এক গৃহবধূকে (২১) ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর ‘ধর্ম শ্বশুর’ মো. আশরাফ আলীকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৮ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।

    গ্রেপ্তারকৃত আশরাফ আলী শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের আন্দিকুমড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

    মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা আন্দিকুমড়া গ্রামে মো. বাদশার বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। একই ঘরের মাঝখানে পর্দা দিয়ে একপাশে ওই দম্পতি এবং অন্যপাশে

    আশরাফ আলী ও তাঁর স্ত্রী বসবাস করতেন। গত ১ জুলাই আশরাফ আলীর স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সুযোগে গত ৫ জুলাই রাতে আশরাফ আলী ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

    পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা ওই গৃহবধূকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁর ওপর ঘটা পাশবিক নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন। ঘটনা

    জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত আশরাফ আলী পালানোর চেষ্টা করলেও গত ৭ জুলাই বিকেলে স্থানীয়রা কৌশলে তাঁকে ডেকে এনে আটকে রাখেন। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

    খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আশরাফ আলীকে আটক করে এবং ভুক্তভোগী

    নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত সিং বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আশরাফ আলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহবধূকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

  • বগুড়ায় মিলের ভেতর বৃদ্ধকে হাত-পা বেঁধে হত্যা, ট্রান্সফরমার লুটপাট

    বগুড়ায় মিলের ভেতর বৃদ্ধকে হাত-পা বেঁধে হত্যা, ট্রান্সফরমার লুটপাট

    বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি মিলের ভেতর থেকে মোহাম্মদ আলী সরকার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ মিলমালিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন

    রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৭টার মধ্যে কোনো একসময় উপজেলার নবগঠিত বেতগাড়ী ইউনিয়নের ফেনীগ্রাম ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোহাম্মদ আলী সরকার ফেনীগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার মৃত কছির উদ্দিন সরকারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষে তিনি নিজ মালিকানাধীন মিলের দিকে যান। ভোরে পাশের গ্রামের এক ব্যক্তি মরিচ ভাঙানোর জন্য সেখানে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে বিষয়টি স্থানীয় ভ্যানচালকের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।

    পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মিলের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে তারা চৌকির ওপর মোহাম্মদ আলীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ দেখতে পান। তাঁর মাথার পেছনে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে।

    এ সময় মিলের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ভাঙচুর অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মালামাল লুটের আলামতও মেলে।

    খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা মিলের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃদ্ধকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • শেরপুরে দম্পতিকে রশি দিয়ে বেঁধে স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট

    শেরপুরে দম্পতিকে রশি দিয়ে বেঁধে স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট

    বগুড়ার শেরপুরে গভীর রাতে এক কৃষকের বাড়িতে হানা দিয়ে দম্পতিকে রশি দিয়ে বেঁধে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আমিনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী কৃষক রইছ উদ্দিন ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে চার সদস্যের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ঘরের তালা ও শিকল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের হাতে লোহার রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। ঘরে ঢুকেই তারা রইছ উদ্দিন ও তার স্ত্রী শেফালী বেগমকে রশি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

    এরপর দুর্বৃত্তরা পাশাপাশি তিনটি ঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে একটি স্বর্ণের কানের দুল, একটি রুপার মালা, একটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার টাকা এবং পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল লুট করে। যাওয়ার সময় তারা পরিবারের সদস্যদের একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।

    ভুক্তভোগী কৃষক রইছ উদ্দিন বলেন, “দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের হাত বেঁধে ফেলে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা আমাদের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।”

    এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অনুসন্ধান চলছে।

  • শেরপুরে চেক জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ

    শেরপুরে চেক জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ

    বগুড়ার শেরপুরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পরামর্শ নিতে গিয়ে এক ব্যক্তির চেক জালিয়াতি করে ২১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। তদন্তে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশি মধ্যস্থতায় চলতি সপ্তাহের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিযুক্ত ওই প্রতিবেশী।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়ারতাইর গ্রামের মো. হারুনুর রশিদের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শেরপুর শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। নিরক্ষর হারুনুর রশিদ ব্যাংক থেকে টাকা তোলার নিয়ম না জানায় গত ২০ দিন আগে প্রতিবেশী বাবু হোসেনের (৩৫) কাছে পরামর্শ নিতে যান। এসময় বাবু কৌশলে হারুনুরের একটি স্বাক্ষরিত চেক হাতে নেন এবং ‘স্বাক্ষর সঠিক হয়নি’ বলে সেটি নিজের কাছে রেখে দেন। সরল বিশ্বাসে হারুনুর রশিদ চেকটি বাবুর কাছে রেখে বাড়ি চলে আসেন।

    পরবর্তীতে গত ১৪ জুন ওই চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ২১ হাজার টাকা উত্তোলন করে নেন মো: সামসুল হকের ছেলে বাবু। হারুনুর রশিদ টাকা তুলতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর বাবুর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিটের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. বাবু হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে খামারকান্দি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান মিলন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। বাবু যে ব্যাংক থেকে টাকাটা তুলে নিয়েছেন, তা একজন অফিসার আমাকে নিশ্চিত করেছেন।

    তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন জানান, “তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে যে টাকাটা বাবু হোসেনই উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পর বাবু চলতি সপ্তাহের মধ্যে টাকাগুলো ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

  • পথকুকুরকে কুপিয়ে জখম করার দায়ে বগুড়ায় গ্রেপ্তার ১

    পথকুকুরকে কুপিয়ে জখম করার দায়ে বগুড়ায় গ্রেপ্তার ১

    বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি পথকুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে স্বপন (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত স্বপন শহরের একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তিনি তুচ্ছ কারণে একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে ধারালো চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ড্রেনে ফেলে দেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য এমরান হোসেন স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত কুকুরটিকে উদ্ধার করেন। পরে প্রাণীটিকে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

    বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রায়হান জানান, কুকুরটির শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণীটির শরীরে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কুকুরটি আগের চেয়ে সুস্থ রয়েছে।

    এ ঘটনায় এমরান হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম আলী জানান, পশুর প্রতি এমন নৃশংসতার অভিযোগে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • শেরপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মামলার আসামি আটক

    শেরপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মামলার আসামি আটক

    বগুড়ার শেরপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ শফিকুল ইসলাম গোলাপ (৪৫) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) রাত সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গোপালপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটক শফিকুল ইসলাম গোলাপ শেরপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত ওমর আলী ওরফে মহেরের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ১০ পিস ইয়াবাসহ শফিকুল ইসলাম গোলাপকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, আটককৃত গোলাপের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন থানায় আরও ৬টি মাদকের মামলা রয়েছে। সে এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত।

    এ বিষয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবাসহ আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৬টি মাদকের মামলা বিচারাধীন। মঙ্গলবার তাকে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।”

  • শেরপুরে মাদ্রাসার দুই শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন, পালালেন ২ শিক্ষক

    শেরপুরে মাদ্রাসার দুই শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন, পালালেন ২ শিক্ষক

    বগুড়ার শেরপুরে এক শিক্ষকের মুঠোফোন হারিয়ে যাওয়ার জেরে দুই শিশু ছাত্রকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে এলাকা থেকে পালিয়েছেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষক। গত রবিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসায় এই বর্বর ঘটনা ঘটে।

    নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্র হলো, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শ্রীঘণ্টা গ্রামের মো. সিফাত (১০) এবং শেরপুরের জামুর উত্তর পাড়া গ্রামের নাঈম হোসেন (১১)। তারা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক আতিকুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার শিক্ষক আতিকুল হাসানের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে আতিকুল ও ইসমাইল হোসেন গভীর রাতে ওই দুই ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফোন চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। নির্যাতনে দুই শিশুর কোমর ও শরীরের নিচের অংশে গুরুতর জখম ও কালশিটে দাগ পড়ে যায়।

    আহত সিফাতের বড় চাচা আহমেদ আলী জানান, সোমবার দুপুরের দিকে তিনি নির্যাতনের খবর পান। মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন দুই শিশু বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পরে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে মোবাইল হারানোর জেরে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

    ঘটনার জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সোমবার বিকেলে মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ করেন। তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক গা ঢাকা দেন।

    কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, “মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র স্থানে শিশুদের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

    শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুদের সাথে কথা বলেছি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • শেরপুরে ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিল এলাকাবাসী

    শেরপুরে ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিল এলাকাবাসী

    বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মাদক বিক্রির অভিযোগে এক দম্পতি ও তাদের ছেলেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন, মো: জসিম (৬০), তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৪৮) এবং তাদের ছেলে কষ্ট (৩০)। এ সময় জীবন নামে তাদের আরেক স্বজন কৌশলে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জসিম ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। মাদক বিক্রির প্রতিবাদে প্রায় ১০ দিন আগে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও শুক্রবার রাতে এলাকায় মাদকসেবীদের মাতলামি বেড়ে গেলে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা এক নারী নেত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিনজনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।

    উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ ও পৌর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রিচি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালিয়ে কিছু দেশীয় অস্ত্র, গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে। পরে এলাকাবাসী আটককৃতদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত জসিম ও জোসনা এর আগেও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

    শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, “তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু মাদক ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • নন্দীগ্রামে তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা, পুলিশি সহায়তায় উদ্ধার

    নন্দীগ্রামে তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা, পুলিশি সহায়তায় উদ্ধার

    বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক ছাত্রদল নেতার স্ত্রীকে আটকে রাখার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন সালমির ইসলাম নামের এক সংবাদকর্মী। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শিমলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সংবাদকর্মীকে উদ্ধার করে এবং তার আটকে রাখা মোটরসাইকেল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

    আহত সালমির ইসলাম দৈনিক ভোরের ডাক-এর উপজেলা সংবাদদাতা এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য। হামলার পর তাকে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিজরুলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    জানা যায়, নন্দীগ্রামের মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিল প্রায় দেড় বছর আগে ইভা খাতুনের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ইভা খাতুনের বাবা আলমগীর হোসেন এই বিয়ে মেনে না নিলেও সম্প্রতি সমঝোতার কথা বলে মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ ওঠে, আলমগীর হোসেন মেয়েকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ডিভোর্স করানোর চেষ্টা করছেন এবং মারধর করছেন।

    এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েকজন সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যান। তথ্য জানতে চাইলে আলমগীর ও তার সহযোগীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডার মধ্যে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে সালমির ইসলাম পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল ও গণমাধ্যমের সরঞ্জাম আটকে রাখে।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালমির ইসলামকে উদ্ধার করে। তার শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে এমন হামলার ঘটনায় প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, “সংবাদকর্মীর ওপর হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

    বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান জানান, বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে মালামাল উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • শেরপুরে অস্ত্রসহ আটক ছিনতাইকারী থানা থেকে চম্পট

    শেরপুরে অস্ত্রসহ আটক ছিনতাইকারী থানা থেকে চম্পট

    বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আতিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল স্থানীয় জনতা। তবে ওই যুবক থানা থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী চালক। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বনমরিচা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আটক আতিকুল ইসলাম উপজেলার বাগড়া কলোনী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে।

    স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত প্রায় ৩টার দিকে শেরুয়া বটতলা এলাকার অটোরিকশাচালক বাবলু সরকার ধুনট মোড় থেকে দুই যাত্রী নিয়ে বনমরিচার দিকে যাচ্ছিলেন। বনমরিচা এলাকার একটি চাতালের পাশে পৌঁছালে যাত্রীবেশে থাকা ওই দুজন অস্ত্রের মুখে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় চাতাল শ্রমিকেরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে একজন পালিয়ে গেলেও আতিকুল ইসলামকে একটি দেশীয় অস্ত্রসহ ধরে ফেলে তারা। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।

    খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে তিনি অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে না নিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। এ বিষয়ে এসআই হায়দার আলী বলেন, “আতিকুল গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়নি। বরং তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।”

    তবে অটোরিকশাচালক বাবলু সরকারের অভিযোগ ভিন্ন। তিনি জানান, পুলিশের কথামতো তারা আতিকুলকে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সকাল ১০টার দিকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত এসআই জাহিদুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হলে তিনি তাদের ডিউটি অফিসারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ডিউটি অফিসারের কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও পুলিশ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত যুবক পুলিশ ও চালকের সামনেই হুমকি দিয়ে থানা থেকে নির্বিঘ্নে চলে যায়।

    এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল। থানা থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”